লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার নামক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী বাজার কাপড়িয়াপট্টিতে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গত এক বছর পূর্বে। এরপর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও টেস্ট বাণিজ্য করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
অবৈধ কার্যক্রমের কোন খবর সামনে এলে মৌখিকভাবে সতর্ক করা ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেননি সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা সিভিল সার্জন। সরেজমিন শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এসেছেন কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারে। কথা হয় সালমা নামের এক রোগীর সাথে। তিনি জানান, এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমি চিনি না। অল্প টাকায় রিপোর্ট করে দেয়ার কথা বলে একজন লোক এখানে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদক কে বলেন, আমরা এখনো বড় আকারে ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম শুরু করিনি। প্রাথমিক কিছু টেস্ট ও রিপোর্ট করছি মাত্র। অন্যদিকে কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের লাইসেন্স পেতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা নামের ভুঁইফোড় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এসব ক্লিনিকের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি যেমন তেমনি ভোগান্তিরও শেষ নেই। চিকিৎসা নিতে আসা দূর দূরান্ত থেকে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দালালের মাধ্যমে আমরা কেয়ার প্লাসে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখানে আল্ট্রা করানোর জন্য আমাদের কে প্রায় ২ ঘন্টা বসিয়ে রেখেছে। ভোগান্তির মধ্যে শেষ নয়, কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টারের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রমরমা প্রতারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রতিষ্ঠানে নেই কোন দক্ষ প্যাথলজিষ্ট ও টেকনিশিয়ান।
গ্রামের সহজ সরল রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসার নামে সঠিক ভাবে পরীক্ষা না করেই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার থেকে অনেক চিকিৎসকও দালালরা কমিশন পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
শুয়াগাজী বাজারে অবস্থিত কেয়ার প্লাস মেডিকেল সেন্টার ও অন্যান্য প্যাথলজি সেন্টারগুলোতে নেই নিজস্ব কোন চিকিৎসক। অথচ প্রতিটি ক্লিনিক সমূহে একাধিক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে চাকচমক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দক্ষ টেকনিশিয়ানদের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে প্যাথলজির বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদন দেন সেখানকার কর্মচারীরা। এমনকি মালিক ও কর্মচারীরা চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সিভিল সার্জন ডা.আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার আগে কোন ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম শুরু করার কোন সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম শুরু করলে সেসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন