আব্দুল্লাহ আল মানছুর
১ মে ২০২৫, ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মহান মে দিবস আজ

শ্রম-শোষণের বিশ্ব ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ছেদ করে এক দিন বদলের বাস্তবতা এনেছিল মে দিবস। মে দিবসের ধাক্কা বিশ্বের শ্রমিকদের সংহতি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের ওপর শোষণের বিরুদ্ধেও প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে। মে দিবসের পথ ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার, বিশেষ করে ন্যূনতম মজুরি, কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা—এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কিন্তু বিশ্বায়নের ফলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বৈষম্য ও বঞ্চনা।

বাংলাদেশের শ্রমিকদের, বিশেষ করে পোশাকশিল্প, জাহাজশিল্প, ইমারত নির্মাণ শিল্পসহ অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কর্মরত লাখো শ্রমিক উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও অন্যান্য অধিকার পান না। মৌলিক চাহিদা পূরণ করে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন জাতীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা কিন্তু কাগজের সেই নিয়মের বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। 

কেবল শ্রম-বৈষম্য নয়, শিক্ষা থেকে শুরু করে চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য একপর্যায়ে ককটেলের মতোই বিস্ফোরিত হয়েছে! যে আন্দোলনের ঢেউ ছাত্র জনতাকে এক কাতারে শামিল করেছে রাজপথে। জীবন উৎসর্গ করেছে তরুণরা।

 

 

এমন বাস্তবতায় বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন প্রেক্ষাপটে নতুন বাংলাদেশে ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়ব এ দেশ নতুন করে’ প্রতিপাদ্যে পালন করা হবে এবারের মহান মে দিবস। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন আজ।

১৩৯ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকেরা কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের উন্নত পরিবেশ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেন। দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেদিন পথে নেমে এসেছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা এক বাণীতে বলেছেন, বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহান মে দিবস-২০২৫’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। দৈনিক আট ঘণ্টা শ্রম, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমের মর্যাদা আদায়ের লক্ষ্যে ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমিকদের রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ও শ্রমের মর্যাদা সম্মানের সঙ্গে বিশ্বময় স্বীকৃতি লাভ করে। এ দিবসে আদায় হয়েছে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। সে প্রেক্ষাপটে এটি শুধু একটি সাধারণ দিবস নয়, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার উৎস।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসা নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯জন নিহত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব একমাত্র জনগণের : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত

কার্যকর মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

আগস্টজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস

প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান শুরু অক্টোবরে

মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র ক্ষমতা দেখাতে পারে জনগণ : তথ্যমন্ত্রী

১০

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই : মির্জা ফখরুল

১১

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

১২

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১৩

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

১৪

স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১৫

‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

১৬

তানজিদ-সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বস্তির জয় বাংলাদেশের

১৭

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫

১৮

বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

১৯

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

২০