রাজধানীর বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সোয়েব রহমান জিশানসহ (২৫) ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার ফুলহাতা গ্রামের মো. মিজানুর রহমান খানের ছেলে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার চহটা গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও একই উপজেলার রাজ্জাকপুর গ্রামের মো. নুরুল আমিনের ছেলে মো. কাউসার হোসেন।
এর আগে বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সোয়েব রহমান জিশানসহ অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী ই-ব্লক ৩নং রোডের শেষ মাথার জুস দোকানের ভেতরে ছিলাম। সে সময় অজ্ঞাতনামা এক লোক বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল দেখে আমি তার কাছে জানতে চাই, আমাকে চেনেন কিনা? কেন তাকাচ্ছেন বারবার? এ কথা শুনে উনি উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এ কারণে আমি দোকান থেকে বের হয়ে আসি। আমি ও আমার ছোট ভাই ও বন্ধু দোকান থেকে বের হই। বের হওয়ার পর ওই দোকানে অজ্ঞাত দুজন ঢোকেন। খুব সম্ভবত ওই লোকের কাছ থেকেই তাকানোর বিষয়টি শুনে তারা আমার দিকে তাকালে কী হবে বলে টিজ করতে করতে দোকান থেকে বের হয়ে বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাতনামা দুজন আমার পথরোধ করেন।’
‘এটা দেখে আমার ছোটভাই তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন তারা আমার ভাইকে থ্রেট দেওয়া শুরু করে এবং বলে যে, ‘বাসা কই, চলো বাসায় যাই’। আমি তখন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বলতে থাকি, আমাকে টিজ করায় আমার ছোট ভাই সামনে আসছে, আপনারা সরেন। ওরা আরও উত্তেজিত হতে থাকে এবং আমার ভাইকে দুজনে মারতে শুরু করে। তখন আমি আমার ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে পেছন থেকে বিবাদী জিশান ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এসে আমাকে চুল ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে ও আমার শরীরে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি দেয়।’‘অন্যদিকে আমার ভাইকে মারপিট করতে দেখে আমার বন্ধু মাশফিক ভিডিও করতে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এরপর বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাত দুজন ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া শুরু করে এবং আরও বলতে থাকে, ‘রেপ করসি?’, ‘হ দেখ রেপ করসি’। ওই সময় বিবাদী জিশান মোবাইল ফোনে ফোন করে আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জন লোক নিয়ে আসে। সবাইকে শনাক্তও করা যায়নি, বিবাদী জিশানসহ অজ্ঞাত দুজন ব্যক্তি আমাদের ফোন ফেলে দিচ্ছিল বারবার লাথি দিয়ে। বলছিল কার কাছে যাবি যা? একজন বলল, ‘আমি আনন্দ টিভির সাংবাদিক, যা কার কাছে বিচার চাওয়ার চেয়ে নে’।
তখন এক বয়স্ক লোক এসে ওদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করে বলতে থাকে, ‘আমি সমিতির নেতা, সমাধান করে দেব।’ তখন আমি ও আমার ছোট ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে চলে যাই।
মামলার বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ প্রতিবেদককে বলেন, মামলায় সোয়েব রহমান জিশান নামে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
Facebook Comments Box
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলায় নিহত ২০
১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পারমানবিক অস্ত্র প্রশ্নে নমনীয় ইরান
২
বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৩
বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব
৪
শক্তিশালী তুষারঝড়ে নিউইয়র্কে নগরজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
৫
পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৬
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা
৭
ভারতীয়দের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করেছে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস
৮
ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার : মাহদী আমিন
৯
মুকসুদপুরে প্রায় ১৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করল চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থা
১০
বেসরকারি ফলে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ ও জামায়াত ৬৮ আসনে জয়ী : ইসি সচিব
১১
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে
১২
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার