IT Support
২৬ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ১০টায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি।

এরপর অধিনায়ক কুচকাওয়াজ শেষ করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চেয়ে ঘোড়ায় চড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। অধিনায়কের নেতৃত্বে প্রত্যেকটি দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শনের জন্য এগিয়ে আসতে থাকে।

মার্চপাস্টের প্রথমে থাকে বিভিন্ন পতাকাবাহী তিনটি দল বা কন্টিনজেন্ট। এরপর পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিতে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাজোয়া রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্টারি রেজিমেন্ট, আর্টিলারি কন্টিনজেন্ট, এয়ার ডিফেন্স কন্টিনজেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারস কন্টিনজেন্ট, সিগনালস কন্টিনজেন্ট, সার্ভিসেস কন্টিনজেন্ট।

এরপর জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিজেন্টের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানান, দলটি সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গ্যালারিতে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সালাম প্রদর্শন করেন আর অন্যান্য দর্শকরা দাড়িয়ে সম্মান জানান।

এরপর পর্যায়ক্রমে আসে প্যারাকমান্ডো কন্টিনজেন্ট, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, কারা পুলিশ, সম্মিলিত নারী কন্টিনজেন্ট ও মডারনাইজড ইনফ্যান্টারি কন্টিনজেন্টগুলো সালাম প্রদর্শন করে মার্চপাস্ট করে বেরিয়ে যায়।

সেনা ও বিজিপির ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী কন্টিনজেন্টের পর খোলা গাড়িতে বহনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের কন্টিনজেন্ট এগিয়ে যায়।

এরপরই ১০ হাজার ফুট উপর থেকে মূল মঞ্চের দুদিকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার প্যারেড গ্রাউন্ডে নামেন, যারা জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা বহন করেন।

এরপর প্যারাকমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এরমধ্যেই মাথার উপরে উড়ে যায় আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান।

পর্যায়ক্রমে আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র‌্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার উড়ে যায়।

এরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে একে একে এগিয়ে আসে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিকক বহরগুলো; যেখানে ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়।

এরপর প্যারাকমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এরমধ্যেই মাথার উপরে উড়ে যায় আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান।

পর্যায়ক্রমে আর্মি অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র‌্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল অ্যাভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার উড়ে যায়।

এরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে একে একে এগিয়ে আসে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহরগুলো; যেখানে ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়।

এরপরে শুরু হয় কুচকাওয়াজের এবারের অন্যতম আকর্ষণ বিমান বাহিনীর ‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ এই প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো বিভিন্ন ফরম্যাশনে উড্ডয়ন কৌশল প্রদর্শিত হয়।

পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল রং ছাড়তে ছাড়তে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে। ‘লো লেভেল’ ফ্লাইং বিমান প্রদর্শনীর পর যোগ দেয় মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

এই আধুনিক যুদ্ধবিমানটি রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্লাইং স্যালুট’ প্রদর্শন করে। এরপর কয়েক দফা টার্ন পারফরম্যান্স, লো লেভেল ফ্লাইংও প্রদর্শিত হয়। শেষে মূল মঞ্চের পেছন দিক থেকে এসে ‘ভিক্টোরি রোল’ প্রদর্শন করে উপরের দিকে মেঘের আড়ালে চলে যায় মিগ-২৯, যেটিকে ‘চূড়ান্ত প্রদর্শনী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় ১১টা ৫৯ মিনিটে।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ দেশি-বিদেশি কুটনৈতিক, রাজনৈতিক নেতা, আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট দেখতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী।

২০০৮ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ১৮ বছর পরে এবার ২৬ মার্চের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হল এ প্রদর্শনী।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনে এ আয়োজন থাকত।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : ১১ জনের মৃত্যু

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নাইজেরিয়ায় হামলায় নিহত অন্তত ২০

লড়াই জমিয়ে শেষ ম্যাচ হারল বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংকের পুরো বোর্ড ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৫৮৩

আফগানিস্তানে ট্রাক উল্টে ১০ শিশুসহ নিহত ১৮

১০

বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখা যাবে ইউটিউবে

১১

পাঁচ বছরে ৫ লাখ শূন্য পদে নিয়োগ দেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

১২

সমাজের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: স্পিকার

১৩

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

১৪

বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাই

১৫

হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

১৬

লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত

১৭

উচ্চশিক্ষা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

১৮

কালিয়াকৈর পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

১৯

টানা এক সপ্তাহ লোডশেডিংমুক্ত দেশ

২০