রিপোর্ট বাংলাদেশ~
১ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সুদানে রাস্তায় শত শত মরদেহ, কবর দেওয়ার কেউ নেই

সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে ভয়াবহ সহিংসতার পর রাস্তাজুড়ে পড়ে আছে শত শত মরদেহ, যাদের কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করার সময় অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি হাসপাতালেই ৪৬০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আহতদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন চিকিৎসাহীন অবস্থায়। শহর ছেড়ে পালিয়ে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে ইতোমধ্যে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।

বেঁচে ফেরা এক নারী, পাঁচ সন্তানের মা হায়াত, এএফপিকে বলেন, সাতজন আরএসএফ যোদ্ধা তাদের ঘরবাড়ি লুটপাটের পর তাঁর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে তাঁর সামনেই হত্যা করে। তিনি জানান, “রাস্তাজুড়ে অসংখ্য মরদেহ পড়ে আছে, আহতদের কেউ উদ্ধার করতে পারছে না।” আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী হুসেইন বলেন, বোমাবর্ষণে আহত হয়েও তিনি এক পরিবারের সহায়তায় গাধার গাড়িতে করে তাভিলায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, তাভিলা শরণার্থী শিবিরে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা এখনো সীমিত, অনেকেই পথে প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, দারফুরে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৪৫০ জনেরও বেশি রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ নাগরিক হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস এ হত্যাযজ্ঞকে “মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ” আখ্যা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ধরনের গণহত্যার আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্যাটেলাইট চিত্রেও দেখা যাচ্ছে, শহরের বিশাল এলাকা রক্তে লাল হয়ে আছে। মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এল-ফাশেরে এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছে তারা।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসা নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯জন নিহত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব একমাত্র জনগণের : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত

কার্যকর মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

আগস্টজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস

প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান শুরু অক্টোবরে

মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র ক্ষমতা দেখাতে পারে জনগণ : তথ্যমন্ত্রী

১০

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই : মির্জা ফখরুল

১১

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

১২

দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১৩

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

১৪

স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১৫

‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

১৬

তানজিদ-সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বস্তির জয় বাংলাদেশের

১৭

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫

১৮

বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

১৯

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

২০